রিনি ভট্টাচার্য্যের গল্প
রসপুলি আর
মালপোয়া
মাসটা পৌষের
শেষ। আজ পনেরোই জানুয়ারি আমাদের বাড়িতে বাস্তুপূজা। মা ভোর তিনটেতে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে নিয়ে ভেজা গরদের শাড়ি
পড়ে ঘোমটা টেনে কাঁপতে কাঁপতে সত্যেন-ভাইয়ার গোবর জল দিয়ে লেপামোছা উঠোনের ঠিক
মধ্যিখানে ছ’টি পাটকাঠিকে জল দিয়ে ফুলের মালায়
সাজিয়ে একটা ঝকঝকে কাঁসার পরাতে রেখেছেন। তারপর ছ’খানি এঁটেল মাটির গোল গোল মন্ড বানিয়ে মাটিতে খুরপি দিয়ে গর্ত করে তার ভেতরে
পাঠকাঠিগুলো চেপে বসিয়ে সোজা করে দাঁড় করিয়ে বাগানের থেকে বাবার তুলে দেওয়া, আমার গাঁথা নানা রকমের ফুলের মালা নিয়ে মা সেগুলোকে সাজিয়ে
দিলেন। কী অপরূপ লাগছিল দেখতে!
একপাশে
কাঠকয়লার উনুনে মা আমাদের বাড়ির জার্সি গরুর দুধ দিয়ে পায়েস বানালেন। বিনা চিনিতে।
তারপর ধোয়া কলাপাতায় সেই পায়েস সাজিয়ে দিলেন। পাশে পাশে একটু একটু করে নতুন খেজুর
গুড়ের টুকরো রাখলেন। তারপর কাঠকয়লার উনুন জ্বালিয়ে তার ওপরে পেতলের কড়াই বসিয়ে তার
মধ্যে বনস্পতি ডালডা ঢেলে বাটা মুগের ডালের সাথে বেসন, ময়দা, ক্ষীর ,মধু, কিসমিস, গুঁড়ো ছোট এলাচ মিশিয়ে চটকে মেখে গোল গোল ছোটো ছোটো গুলি করে ছেড়ে ফুটন্ত ডালডায় ছান্তা দিয়ে নাড়তে
লাগলেন। বেশ কড়া করে ভেজে ছেড়ে দিলেন চিনির রসের কড়াইয়ে। এগুলো হল রসপুলি। কী অপুর্ব ই না খেতে! এবার ময়দা, ক্ষীর, বেসন, সুজি, চালের গুড়ো দিয়ে
পাতলা পাতলা গোলা তৈরী করে বেলনা চাকি
দিয়ে বেলে গরম ডালডায় ভেজে আখের গুড়ের রসে
ডোবানো হল। এ হল মালপোয়া। তার সাথে মার হাতে বানানো নারকোলের নাড়ু, পাঁচ রকমের গোটা ফল, ভেজা সোনা মুগের ও কালো নেনিয়া চাল দিয়ে নৈবেদ্য সাজানো হল। বাঁ ধারে
দীপ-ধূপ-ধুনো জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পুরো
বাড়িটা মধুর সুবাসে ভরে উঠল।
এ সবই হল
বাস্তু পূজার উপচার। কত সুন্দর করে মা সাজিয়ে দিলেন সেই পাটকাঠি ঠাকুরদের সামনে!
এখন অপেক্ষা আমাদের গৃহ পুরোহিত অমূল্য বক্সীর জন্য। তিনি আসেন শালগ্রাম শিলা হাতে নিয়ে। তাই মৌনীবাবা হয়ে থাকতে হয়। এমনিতে সাধারণত একটু তুতলে কথা বলেন। আমরা তিন ভাই-বোন ওঁকে জেঠুমনি বলে ডাকি।
আমি শৈলেয়ী।
বড়ো দাদা শিরীষ। ছোটো দাদা শিল্পিক। বাবা শিরোদেশ গঙ্গোপাধ্যায়। মা পদ্মাক্ষী
গঙ্গোপাধ্যায়। আমাদের এই বাড়িটাতে অনেক গাছ আছে। তাতে কত ধরনের পাখির বাসা! একটা
লিচু গাছ আছে। সে গাছের মাঝের শক্ত শাখায় দাদারা একটা সেগুন খাটের পিঁড়িতে পুরনো
কাপড় দিয়ে জড়িয়ে চার ধারে ফুটো করে চারফালি পাটের দড়ি দিয়ে বেঁধে একটা দোলনা
বানিয়েছে। আমরা তাতে দুলে দুলে লেখাপড়া করি।
বাস্তুপূজা
সকাল ন’টার মধ্যেই শেষ হল। আমরা তিন ভাই-বোন কুয়োর জলে স্নান করে
স্কুল যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলাম। তারপর মা’র দেওয়া
পুজোর প্রসাদ খেতে বসলাম। বিনা চিনির পায়েস খেজুরের গুড় দিয়ে মেখে খেতে অত্যন্ত
সুস্বাদু। তার সাথে রসপুলি ও মালপোয়া! ভাবা-ই যায় না!
বড় দাদা পড়ে
ক্লাস টুয়েলভে। ছোটজন দশম শ্রেণীতে। আমি ক্লাস এইটে। মা ও বাবাকে প্রণাম করে যে
যার স্কুলের দিকে রওনা দিলাম বাবার ঠিক করা রিক্সা করে। এই দিনটা বড়ই স্পেশাল।
খুশিমনে এগোতে শুরু করলাম। স্কুলেও আমরা খুব মজা করলাম। টিফিনে পিঠে খেলাম। মায়ের
বানানো পিঠেপুলি-পায়েস-নাড়ু তো অতুলনীয়! স্কুল থেকে ফিরে দেখি বাড়ি ভর্তি লোকজন।
অতিথি। আমাদের উৎরাই পাড়ার মানুষেরা, বাবার বন্ধু ও সহকর্মী, দাদাদের বন্ধুরা, ও আমার কয়েকজন
খেলার সাথী।
সবাই আমাদের
গোলাকার আঙিনার চারপাশে বসে মা’র বানানো রসপুলী ও
মালপোয়া পরম পরিতৃপ্তির সাথে খাচ্ছেন ও খাচ্ছে।
একদম পিছনের সারিতে এক অচেনা কিশোর লাজুক মুখে বসে আছে। কিছুই খাচ্ছে না। বড়ো দাদা
তার কাছে গিয়ে বলল, “কী রে জহর? খাচ্ছিস না কেন রে? অত লজ্জা দেখাতে হবে না। খেয়ে নে। না হলে আমাদের মা-বাবা
কষ্ট পাবেন। বুঝিস না?”
সেই ছেলে
মৃদু কন্ঠে বলল, “পুজোর প্রসাদ তো! আমার কি খাওয়া উচিত?”
সেকথা শুনে
মা তার কাছে গিয়ে বললেন, “কেন রে বাবা
খাচ্ছিস না? খেতে ইচ্ছা করছে না বুঝি?”
সে মাথা নিচু করে বলল, “মাসিমা! আমি যে মুসলমান। আমার পুজোর প্রসাদ কি খাওয়া উচিত?”
মা তার
মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে উত্তর দিলেন, “খা তো। কিচ্ছু হবে না। কিছু হয় না ভালবাসার প্রসাদ খেলে। তোদের বাড়িতে ইদের
দিন গিয়ে আমরাও খেয়ে আসবো”।
জহর হঠাৎ
উজ্জ্বল হয়ে উঠল। মাকে জিজ্ঞেস করল, “সত্যি? যাবেন আমাদের বাড়িতে। ছোটো বাড়ি
কিন্তু! অসুবিধে হবে না তো?” আমি দেখছিলাম, শুনছিলাম, ভাবছিলাম যে
মুসলমান হওয়াটা কি অপরাধ? অন্যায়? পাপ?
সবার খাওয়া
হলে লোহার বালতিতে রাখা জল দিয়ে দাদারা
তামার ঘটি করে সকলের হাত ধুইয়ে দিলেন। জহর নামের ছেলেটি বিনীতভাবে দাদাদের বলল, “ছেড়ে দাও না গো! আমি নিজেই হাত ধুয়ে নিচ্ছি। আমাকে অত সমাদর
করার কী দরকার শিরীষ?” দাদা সত্যিই রেগে
গিয়ে জহরের কান ধরে নিজে ঘষে ঘষে ওর হাত ধুইয়ে দিল। তারপর ওর হাত ধরে টানতে টানতে
আমাদের বসার ঘরে নিয়ে এসে বসালো। আমার কাছে একটা তোয়ালে চাইল। আমি এনে দিলাম। দাদা
ওর হাত দু’টো মুছে দিলো। সে সময় আমি জহরকে ভালো
করে দেখলাম। ভারি হ্যান্ডসাম দেখতে। বেশ পাঠানী পাঠানী চেহারা।
ও আমার দিকে
তাকলো। আর আমি ওর দিকে। কী যে হল জানিনা। আমরা দু’জনে একে অপরের দিকে নিষ্পলক তাকিয়ে থাকলাম। সময় পেরোতেই থাকলো। হঠাৎ সে উঠে
দাঁড়ালো। দাদাকে জড়িয়ে ধরে বলল, “এবার যাই রে দোস্ত।
কাল সকালে কলেজে যেতে হবে। একটা প্রোজেক্টের দায়িত্ব আমায় দিয়েছেন রজত স্যার। তাই
রাত জেগে কাজটা শেষ করতেই হবে!”
আমার জানতে
ইচ্ছে করছিল ও কী পড়ে? কোন কলেজে? কীসের প্রোজেক্ট? দাদাকে জিজ্ঞেস করতে বেশ লজ্জা লাগছিল। তারপর জহর মা ও বাবাকে পায়ে হাত দিয়ে
প্রণাম করলো। অন্যান্য অতিথিদের নমস্কার করে বেরিয়ে গেল। আমার ভেতরটা শূন্য হয়ে
গেল। এমন উপলব্ধি তো আগে কখনও হয়নি! বুকের
ভেতরটা ধুকপুক করছিল।
রাতে খাওয়ার
সময় বাবা দাদাকে প্রশ্ন করলেন, “শিরু! তোর বন্ধু তো
মুসমান। ওর নাম জহর কেন?” দাদা এক মর্মন্তুদ
কাহিনী শোনালো- “জহরের আব্বার নাম ছিল তাজঊদ্দিন আহমেদ। ওরা চট্টগ্রামের
মানুষ। মেসোমশাই যুক্ত হলেন মাস্টারদা সূর্য্য সেনের সাথে। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার
লুণ্ঠনের ভয়ংকর কাজে যোগ দিয়েছিলেন এবং সেই অসম লড়াইয়ে ব্রিটিশ সৈন্যদের গুলীতে
মারা গিয়েছেন। ওর আম্মা পরভিন বিবি এক পুলিশ অফিসারের দ্বারা ধর্ষিতা হয়ে আত্মহনন
করেন। ও তখন ছিল এক বছরের এক অনাথ শিশু। এরপর দেশ স্বাধীন হল। অনাথ আশ্রমের
কর্মাধক্ষ এক হিন্দু ব্যক্তি যাঁর নাম সুবিমল সেন। তিনি ঐ বাচ্চাটার বুদ্ধিমত্তায়
মুগ্ধ হয়ে ওকে দত্তক নিলেন। ওঁর স্ত্রী ছিলেন মুসলিম। তাঁদের কোন সন্তান ছিল না।
তাই তাঁরা দুজনেই ওকে পরম স্নেহে গড়ে তুললেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে। ওর ডাক
নাম জহর। অফিশিয়াল নাম মুনাব্বর আহমেদ। ও জেলা স্কুল থেকে মাত্র পনেরো বছর বয়সে
হায়ার সেকেন্ডারি পাশ করেছিল ন্যাশনাল স্কলারশিপ পেয়ে। এখন গভর্নমেন্ট কলেজে
ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে। ফার্স্ট ইয়ারে। ওর বাবা ও মা এখন বৃদ্ধ। আয়ও কিঞ্চিৎ। আজকাল
মাসিমা ও মেসোমশাই দীনবাজারের মেন রোডের ধারে একটা ছোটো চা ও জলখাবারের দোকান
চালান। বাকি সংসার খরচ চলে জহরের
টিউটোরিয়াল হোমে পড়ানোর আর স্কলারশিপের টাকায়। এসব সৎ মানুষদের দেশের
রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সমাজ কি মনে রাখে? বলো বাবা?”
বাবার দু’চোখ দিয়ে জল গড়াচ্ছে।
মা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন। আমাদের তিন ভাই-বোনের চোখেও জল। আমাদের
বাস্তুপূজার আনন্দের অন্ত হলো এক সম্মিলিত চোখের জলের নদীতে!!!
দিন পেরোতে
থাকলো,
আমাদের কাঞ্চনগুড়ি শহরের দুই খান নদীর বহমান জলের মতো। এর
মধ্যে জহর কতবার এসেছে আমাদের বাড়ি। আমরা ও গিয়েছি ওদের বাড়ি সব কটা ইদের দিনে। ইদের
বিরিয়ানি,
অন্যান্য খাবার ও
ফিরনি ও শরবত খেয়ে এসেছি। ওকে আমার ভাললাগা যে গভীর ভালবাসায় রূপান্তরিত, আমরা দুজনেই টের পাইনি। ও এখন বিখ্যাত মেকানিক্যাল
ইন্জিনিয়ার। দাদারা কলেজের পাঠ সমাপ্ত করে একজন এম বি এ করছে আর একজন আই এস আই –এ পড়ছে। আমি ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স নিয়ে পড়াশুনা করছি।
আমরা আলাদা করে দেখাও করি। ও আমায় ছোঁয়। আমিও ওকে। কী যে ভালো লাগে!
মা-বাবা-দাদারা অল্প-বিস্তর বোঝেন। আমাকে যথেষ্ঠ প্রশয় দেওয়া হয়। কারণ জহরের মতো
ভালো ছেলে এ পৃথিবীতে বোধহয় একটিই আছে।
এদিকে ওর
চাকরির বন্দোবস্ত প্রায় হয়েই গেল। জিআরই-তে অসাধারণ মার্কস পেয়ে রিসার্চ করার জন্য
বোস্টনে এমআইটি-তে চান্স পেয়ে গেল। ইতিমধ্যে ওর বাবা প্রয়াত হলেন। ও ভাবছিল মাকে
সাথে নিয়েই যাবে না কি। আরো একজনকে নিয়ে যাবার জন্য ও কথা বললো আমার
মা-বাবা-দাদাদের সাথে। তাঁরা রাজি। আমি তো বিহ্বল হয়ে পড়েছি। ও তো আমার মুন। আর
আমি ওর শৈলী।
আমাদের
আত্মীয়স্বজন ও পাড়ার বেশিরভাগ মানুষ এই বিয়ের ব্যাপারটাতে বেশ বিরক্ত হলেন। মা ও
বাবাকে বোঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেন। আমরা প্রায় সামাজিক ভাবে একঘরে হয় গেলাম।
তাতে কারোরই কোনও উচ্চবাচ্য ছিল না। স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন
অফিসে নোটিশ দেওয়া হল।
এর মধ্যে যা
ঘটলো তাতে বাড়ির সকলে সত্যিই চিন্তিত ও ভীত হয়ে পড়ল। শহরের কুড়ি-পঁচিশ জন মস্তান
ধরনের লোক বাবা ও দাদাদের শাসিয়ে গেল। তাদের বক্তব্য হল, এই বিয়ের আগেই আমাদের চরম বিপদ আসন্ন। তারা জহরের ক্ষতি
করবে এবং আমারও। এর পরে মা,বাবা ও দাদারা
আশঙ্কিত হয়ে পড়লেন। দুই দাদাই জহরের বাড়িতে গেল। ওকে সব কিছু বলে আপাতত বাড়ি থেকে
বেরোতে মানা করে এল। আমি এতই ভাবিত হলাম যে মাকে বললাম, “মা গো! এই বিয়েটা ভেঙে দাও। জহরের প্রাণের থেকে বিয়েটা কি
বেশি জরুরি? আমারও তো কোনও না কোনও বিপদ হতেই
পারে। তাছাড়া, বাবা ও দাদাদের নিরাপত্তার কথাও তো
ভাবা দরকার”।
মা চোখের জল
মুছে রুখে দাঁড়িয়ে বললেন, “তুই আমার মেয়ে হয়ে এত ভীতু কি করে হলি? কি করতে পারে ওরা? কতটা ক্ষতি? আমরা হার মানবো না। বিয়ের পর তোরা
তিনজনে বিদেশ চলে যাবি। পাসপোর্ট-ভিসা সব তো প্রস্তুত। বিয়ে হবেই। আমাদের নিজের
শহর। আমাদের কিছু আত্মীয়রা, তোর বাবার ও
দাদাদের হিতৈষীরা তো আমাদের পাশে আছে রে। ভালো কাজে কত বিপদ আসে। সেগুলোকে ভেদ করে
এগিয়ে যেতে হয় এক আলোকময় জীবনের পথে। তুই একদম ভয় পাবিনা। আমরা তো আছি রে!” মা আমার কপালে চুমু দিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। আমি খানিকটা
আশ্বস্ত হলাম। মায়ের কথা কখনও ভুল হতেই পারেনা
দিন এসে
গেলো রেজিস্ট্রির। আমাকে মা সাজিয়ে দিলেন তাঁর মনের মতো করে। ওদিকে মুনকে দাদারা
প্রস্তুত করে নিয়ে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে গেলো রেজিস্ট্রি অফিসের উদ্দেশে। মা-বাবার
সাথে আমিও রওনা হলাম। মাত্র তিন কিলোমিটার পথ। যাবার সময়ে রাস্তার দেখলাম অনেক
পুলিশ। চারপাশে ছমছমে। নিঃশব্দ। হঠাৎ ফায়ারিং- এর প্রচন্ড আওয়াজ শুনতে পেলাম। একজন
পুলিশ অফিসার আমাদের গাড়িটা থামিয়ে দিলেন।
এবং বাড়ি ফিরে যেতে বললেন। রাস্তার মোড়ে নাকি ভীষন গণ্ডগোল হচ্ছে। একজন মৃত। আমরা
শিউরে উঠলাম। বাবা জানতে চাইলেন, “তার পরিচয় জানেন কি? নাম ইত্যাদি?”
তিনি বললেন, “ঐ মুনাব্বর আহমেদ নামের এক টেররিস্ট। “যান...যান...বাড়ি ফিরে যান। একটু পরেই খানাতল্লাশি শুরু হবে
ও কার্ফু লাগু করা হচ্ছে”।
আমি আর কিছু জানিনা। কতকাল কেটে গেল। আমি তো এখন পুদুচেরিতে অনাথ শিশুদের পড়াই। ভালোই আছি।
No comments:
Post a Comment